# নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২২ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম # কমিশন বাণিজ্য # নিম্নমানের কাজ ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ # নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি #


নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।
তাদের অভিযোগ, বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কমিশন বাণিজ্য, নিম্নমানের কাজ গ্রহণ, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সরকারি অর্থের অপচয় ও জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে ভুক্তভোগী ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কার্যাদেশ প্রদান, কাজের পরিমাপ, বিল প্রস্তুত, অনুমোদন এবং চেক গ্রহণ—প্রায় প্রতিটি ধাপেই কমিশন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলী সরাসরি অর্থ গ্রহণ না করলেও অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কমিশন আদায়ের একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিভাগের দুই উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে কমিশনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। অভিযোগ রয়েছে, সময়মতো বিল পেতে হলে আগে কমিশন পরিশোধ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে
চুক্তিমূল্যের ৫৭ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বিভিন্ন ধাপে আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ, নিম্নমানের কাজ গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবাসিক, অনাবাসিক, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে প্রায় ২২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রকল্পের একটি অংশে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি এবং একই ধরনের অনিয়ম চলতি অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হাসপাতাল-২, ইন্টার্নি ছাত্র হোস্টেল, স্টাফ কোয়ার্টার, জরুরি বিভাগ, সিসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, ওপিডি ভবন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্যুয়ারেজ লাইনের সংস্কারকাজে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের ৩০৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এক রোগী আহত হওয়ার ঘটনাও রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ম্যানুয়াল কোটেশনের মাধ্যমেও সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের কিছু ফিনিশিং কাজেও অনিয়ম এবং অগ্রিম বিল পরিশোধের পর অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সরা।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় নির্বাহী প্রকৌশলীকে অফিসে পাওয়া যায় না। তবে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে তিনি নিয়মিত বৈঠক করেন এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা দেন। কমিশন না দিলে বিল, ফাইল ও প্রশাসনিক কাজ অযৌক্তিকভাবে বিলম্বিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যা বলেন নির্বাহী প্রকৌশলী : অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, টেন্ডার বা বিল প্রক্রিয়ায় তিনি কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন না।
তবে তাঁর নাম ব্যবহার করে এসডিইদের মাধ্যমে কমিশন আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য আর পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চান সংশ্লিষ্টরা : ভুক্তভোগী ঠিকাদার, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়ন, কাজের মান, বিল পরিশোধ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার মাধ্যমে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা হোক।
তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে।
