এনসিপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হামিদের রাজনীতিতে আসার গল্প

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

ফজলুল করিম সবুজ (নওগাঁ)  : নতুন রাজনীতির পথে এক উদ্যোক্তা, পরিবেশযোদ্ধা ও সমাজসেবকের যাত্রা।বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় নওগাঁ–৪ (মান্দা) আসনে উঠে এসেছেন এক নতুন মুখ—ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হামিদ। একজন উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী, ইনোভেটর, গবেষক এবং সমাজসেবক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এবার তিনি বেছে নিয়েছেন নতুন রাজনৈতিক শক্তি NCP (নাগরিক কমিটি পার্টি)–কে।


বিজ্ঞাপন

তার পুরো যাত্রাই যেন এক অনুপ্রেরণার গল্প—ব্যক্তিগত সাফল্য থেকে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার।
শৈশবের স্বপ্ন থেকেই মানুষের জন্য কিছু করার, নওগাঁর মান্দা উপজেলার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা আব্দুল হামিদ ছোটবেলা থেকেই দেশের জন্য বড় পরিসরে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন। মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা থেকে এইচএসসি, এরপর বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং—সব পথই তাকে আরও দৃঢ় করেছে মানুষের জন্য কাজ করার চিন্তায়।

বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার অগণিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশেই থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যান। কিন্তু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই তার প্রধান চালিকা শক্তি ছিল।
পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি এবং হার্ভার্ড বিজনেস অনলাইন থেকে লিডারশিপ সার্টিফিকেট অর্জন করে নিজের দক্ষতা আরও শানিত করেন।


বিজ্ঞাপন

কৃষকদের জন্য প্রথম বড় উদ্যোগ—এগ্রি-ইনপুট প্রকল্প
নিজের গ্রামে কৃষকদের আয়ের উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি বিস্তারের জন্য তিনি চালু করেন একটি উদ্ভাবনী এগ্রি-ইনপুট প্রকল্প। স্থানীয় কৃষির প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি তৈরি করেন এনজাইম–ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব একটি সমাধান, যা কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এই উদ্ভাবনের জন্য তিনি রাজশাহী বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন এবং পরে আমন্ত্রণ পান ভারতের মুম্বাইয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনার জন্য। সেখানে বিভিন্ন ইমপ্যাক্ট–বেজড প্রতিষ্ঠান তার প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়।
যদিও ২০১৩–১৪ সালে রাজনৈতিক চাপ ও সরকারি অসহযোগিতার কারণে প্রকল্পটি বড় পরিসরে বাস্তবায়ন হয়নি—এটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় হতাশাগুলোর একটি।
এছাড়াও পরিবেশ রক্ষা তার কাছে যেমন নৈতিক দায়িত্ব, তেমনি মানুষের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বাপা–এর জীবন সদস্য হন।
মান্দা এলাকায় অবৈধ ইটভাটা, কৃষিজমি দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে তিনি বহুবার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিবন্ধকতা এলেও তিনি পিছপা হননি।


বিজ্ঞাপন

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ
তরুণদের নিয়ে তার মূল দর্শন—“দক্ষ তরুণ কখনো বেকার হয় না।”এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া, প্রযুক্তি শেখা ও স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়ে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন।

সামাজিক ও মানবিক কাজে নিয়মিত ভূমিকায় মান্দা উপজেলায় বহু বছর ধরে তিনি,মসজিদ–মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা,স্থানীয় সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সহ রাস্তা–ঘাট উন্নয়নে সরকারি দপ্তরে আবেদন করে আসছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নীরব পৃষ্ঠপোষকতার ভূমিকা পালন করেছেন।ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে চলমান জুলাই আন্দোলনে তিনি ঢাকায় বহু তরুণকে নীরবে সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।অনেক “জুলাই যোদ্ধা” আজও তার সঙ্গে যুক্ত আছেন।এই আন্দোলন তাকে বুঝিয়েছে—সমাজের জন্য কাজ করতে হলে শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজন।

ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হামিদের রাজনীতিতে জেলা সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন। জুলাই আন্দোলনের পর তিনি যখন পুরনো রাজনৈতিক দলের নোংরা রাজনীতি দেখলেন, তখন উপলব্ধি করলেন—নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দরকার, যেখানে সৎ ও দক্ষ মানুষ নেতৃত্ব দেবে।সেই ভাবনা থেকেই তিনি এনসিপি–তে যুক্ত হন এবং নওগাঁ জেলায় দ্রুত বিস্তার ঘটান তরুণদের নিয়ে।

জুলাই পদযাত্রায় রেখেছেন বড় ভূমিকা।মান্দার মতো একটি উপজেলা থেকে ২০০–র বেশি তরুণকে নিয়ে তিনি নওগাঁর ঐতিহাসিক জুলাই পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করান।এটি ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের এক বড় সাফল্য।

এনসিপির জেলা সদস্য হিসেবে তিনি ‘মান্দার পথে প্রান্তরে -NCP’ প্রোগ্রাম শুরু করেন।সেখানে নতুন রাজনীতির ধারণা প্রচার,সৎ ও দক্ষ তরুণ নেতৃত্ব গঠনসহ লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, সোশ্যাল মিডিয়া সব মাধ্যমে যোগাযোগ বিস্তার করেন। মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে প্রতিনিধি নিয়োগ এবং স্বয়ংক্রিয় ডেটাবেজ তৈরির মাধ্যমে সংগঠন দ্রুত বিস্তৃত করছেন।

বিজনেস আইডিয়া জেনারেশন চ্যাম্পিয়ন হন। যেটি তার জীবনের জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় অর্জন।নিজের ল্যাবে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি যে নতুন ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করেন, তা জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়।এই সাফল্য তাকে আরও দৃঢ় করেছে—দেশে ইনোভেশন ও যুবশক্তিকে এগিয়ে নিতে তিনি বড় ভূমিকা রাখতে চান।

জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দেওয়া উপর এ পর্যন্ত তিনি লিখেছেন ৯ টি বই প্রকাশ করেছেন।যার মধ্যে ৬ টি Amazon Kindle–এ ৩ টি বাংলাদেশে প্রকাশিত পেপারব্যাক।তার লেখার মূল উদ্দেশ্য—মানুষকে আত্মনির্ভরশীল, দক্ষ এবং অনুপ্রাণিত করা।

এনসিপি করার মধ্যেমে আব্দুল হামিদ বিশ্বাস করেন—
“পুরনো রাজনৈতিক ধারা দিয়ে বাংলাদেশে পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
তার মতে এনসিপি হলো—নতুন রাজনীতি,সৎ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব,আধুনিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক কাঠামো, তরুণ–নির্ভর উন্নয়নের প্ল্যাটফর্ম।

৪৯ নওগাঁ–৪ (মান্দা) আসনের জন্য তার পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক পরিকল্পনা হচ্ছে -তিনি মানুষকে বোঝাতে চান,রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়,রাজনীতি মানে উন্নয়ন, সেবা, জবাবদিহিতা।প্রতিটি ভোটারের কাছে সরাসরি যাওয়া,প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে প্রতিনিধি দেওয়া প্রতিটি বাড়ি–ঘরে বার্তা পৌঁছে দেওয়া,সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলা।

তিনি বিশ্বাস করেন- ভোটারের মনস্তত্ত্ব বুঝে দায়িত্বশীল যোগাযোগ ভুল প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়।“সমস্যার বাস্তব সমাধান”–এটাই তার মূল নীতি।

এলাকার বড় সমস্যাগুলোর সমাধানে -অবকাঠামো,, বেকারত্ব,স্বাস্থ্য,শিক্ষা,মাদক,দারিদ্র্য, সরকারি সেবা বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনসিপির ২৪ দফা সহজ ভাষায় উদাহরণসহ, বাস্তব প্রয়োগ দেখিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।ফেসবুক, ইউটিউব, ইনফ্লুয়েন্সার, সংক্ষিপ্ত ভিডিও—সব মাধ্যম কাজে লাগানোর পরিকল্পনা আছে।

তার প্রচার ও দর্শন- শোডাউন নয়—সম্পর্কের রাজনীতি, ভয় নয়—বিশ্বাসের রাজনীতি,প্রতিশ্রুতি নয়—সমাধানের রাজনীতি,ক্ষমতা নয়—জনগণের শক্তি–কেন্দ্রিক রাজনীতি।

ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হামিদ বিশ্বাস করেন-“যদি মানুষকে সম্মান দিই, তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলি,তাহলে মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে—এবার নতুন রাজনীতির সময় এসেছে।”

নওগাঁ–৪ আসনে যদি এনসিপি তাকে মনোনয়ন দেয়, তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন-নিজের সব সামর্থ্য, সময় ও দক্ষতা তিনি জনগণের সেবায় নিবেদন করবেন।

👁️ 400 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *