
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্কার অভিযানের দাবিতে যখন জনমত ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে হাইকোর্টের কাঠগড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে বহুল আলোচিত এক মনোনয়ন বিতর্ক।

কুমিল্লা-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল সংক্রান্ত আদেশ নিয়ে আজ হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই শুনানিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তুঙ্গে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের পর একপর্যায়ে তা খেলাপিতে পরিণত হয়।

সমালোচকদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে ওই ঋণ পরিশোধ না হয়ে বরং অঙ্ক বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রায় ১২৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের অভিযোগ আলোচিত হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসেনি।

এই দায় নিয়েই তিনি পুনরায় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন—এমন দাবিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি ওঠে এবং মনোনয়ন বাতিলের আদেশ জারি হয়।
সেই আদেশের বিরুদ্ধেই আজ হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি।
গতকাল আদালতে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকশ লোক আদালত এলাকায় জড়ো হয়ে হট্টগোলের চেষ্টা করলে আদালত পরবর্তী তারিখে শুনানি নির্ধারণ করেন। আজ সেই শুনানিকে ঘিরে সর্বত্র নজর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধুই একটি মনোনয়ন বিতর্ক নয়—বরং এটি জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের “ঋণ খেলাপিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ” নির্ধারণের প্রথম বড় পরীক্ষা।
জনমনে জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে—নতুন বাংলাদেশে ঋণ খেলাপি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্তদের জন্য রাজনীতির দরজা বন্ধ থাকবে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়েছে—বড় অঙ্কের ঋণের একটি অংশ নিয়ে নাকি ‘সমঝোতার চেষ্টা’ চলছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এই গুঞ্জনই উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
আজকের হাইকোর্টের আদেশ তাই শুধু একজন প্রার্থীর ভাগ্য নয়-বরং আগামী দিনে নির্বাচনী নৈতিকতা, অর্থনৈতিক জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন কতটা কার্যকর হবে, তার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
জনতার কণ্ঠে এখন একটাই স্লোগান—“জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ঋণ খেলাপির স্থান নেই—ফুলস্টপ!” “হাইকোর্ট—ফুলস্টপ!” “সমঝোতা নয়—আইনের শাসন—ফুলস্টপ!” আজকের রায়ই বলে দেবে—নতুন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিই কি ফুলস্টপ বসছে, নাকি পুরনো বন্দোবস্ত নতুন নামে ফিরে আসছে।
