
✦ ফটিক-খোকন-বাহার ঘিরে সিন্ডিকেট—অভিযোগে সরব অভ্যন্তরীণ সূত্র ✦ পরিচালক থেকে সহকারী—বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত! ✦ এনসিটি ইস্যুতে আন্দোলন, কমিশন ও দরকষাকষির প্রশ্ন ?


নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়—এমন অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত একাধিক তথ্য, নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আরও বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্কের চিত্র, যেখানে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

যাদের নাম ঘিরে অভিযোগের কেন্দ্র : বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে যাদের নাম আলোচনায় এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—নায়েবুল ইসলাম ফটিক — সিবিএ সংশ্লিষ্ট নেতা।ইব্রাহিম খোকন — শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে রয়েছে, শেখ নূরুল্লাহ বাহার — শ্রমিক নেতা এনামুল করিম — পরিচালক (পরিবহন), রফিকুল ইসলাম সেতু — প্রধান সহকারী, শিপিং শাখা। আব্দুল্লাহ আল মামুন — প্রশাসনিক সংশ্লিষ্ট কর্মচারী এবং সরোয়ার হোসেন লাভলু — প্রধান সহকারী, এছাড়াও আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।


উল্লেখ্য: এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হলে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করে ও কারো ই কোন প্রকার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ফটিককে ঘিরে ‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ’ বিতর্ক : অভিযোগ রয়েছে, সিবিএ সংশ্লিষ্ট নেতা নায়েবুল ইসলাম ফটিক দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার প্রভাব কমেনি।
বরং তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বজায় রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিছু সূত্র বলছে, তার অনুপস্থিতির সময়ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার মতামত কার্যকর হয়েছে।

খোকন-বাহার সংযোগ: শ্রমিক রাজনীতি না প্রভাব বলয় ?ইব্রাহিম খোকন ও শেখ নূরুল্লাহ বাহারকে ঘিরেও নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।

সূত্রগুলোর দাবি— তারা বন্দরের শ্রমিক রাজনীতির পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমেও যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমিশন বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে, যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিচালক পর্যায়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন : পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কিছু সূত্র। অভিযোগ অনুযায়ী— প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষে অবস্থান, কিছু বিতর্কিত কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য জানা যায়নি।

শিপিং শাখা ও প্রশাসনিক স্তরে অভিযোগ : রফিকুল ইসলাম সেতু, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সরোয়ার হোসেন লাভলুকে ঘিরে অভিযোগ রয়েছে— নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত অনিয়মের

তথ্য ফাঁস বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা আদায়, এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য মেলেনি।
এনসিটি ইস্যুতে ‘দ্বৈত অবস্থান ’ : নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রগুলোর দাবি— আন্দোলনে অংশগ্রহণ, একইসাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, এতে করে আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সম্পদ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ : কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—আয়-উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ, একাধিক স্থানে সম্পত্তি, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরদারির কথাও জানা গেছে।
দুদকের অনুসন্ধান : ২০২৪ সালে দুদক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে তলব করে—সম্পদের বিবরণী চাওয়া হয় প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়, তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বড় প্রশ্ন: ব্যবস্থা কোথায় ? সবশেষে যে প্রশ্নটি ঘুরে ফিরে আসছে—এত অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা কেন দৃশ্যমান নয় ? অনুপস্থিত কর্মচারী বহাল, বিতর্কিত বদলি কার্যকর হয়নি, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বে বহাল, এসব ঘটনা বন্দর প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে
উপসংহার : চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। এখানে যদি অভিযোগ অনুযায়ী একটি প্রভাবশালী বলয় সক্রিয় থাকে, তাহলে তা জাতীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। এখন প্রয়োজন—স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রকাশ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
