
মনিরুল ইসলাম মনির : নারায়ণগঞ্জেথ ফতুল্লার বক্তাবলীতে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তেজিত এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছে অভিযুক্ত যুবক হিরু। এ ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সী।

শুক্রবার (২২ মে) মধ্যরাতে বক্তাবলী এলাকায় এ লোমহর্ষক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিকালে শিশুটি খেলাধুলা করার সময় কৌশলে ডেকে নিয়ে হিরু ও সোহেল তার ওপর নির্যাতন চালায়। শিশুটির অবস্থা বেগতিক দেখে তার মা প্রথমে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত হিরুকে আটক করে গণধোলাই দেয়। রাত আড়াইটার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপর অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে ফতুল্লা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

শনিবার ২৩-০৫-২৬ইং সকালে ঘটনার সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলতে সরেজমিনে ফতুল্লা থানা পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মুন্সী । এ সময় তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং খুব দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন। মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “এটি একটি ন্যাক্কারজনক ও লোমহর্ষক ঘটনা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এই মামলায় সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা দেবে জেলা প্রশাসন।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পৈশাচিক অপরাধ সমাজে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শিশুটির চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে আমরা পাশে আছি। এ ধরনের অপরাধ রোধে আমাদেরকে সবার সচেতন হতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের নেককার জনক ঘটনা না ঘটে সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী পরিদর্শনকালে বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অপর আসামি হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। খুব দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্ত হিরুকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অপর অভিযুক্ত সোহেলকে আমরা আটক করেছি। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
