
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের সম্ভাব্য জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের খবরে নয়াদিল্লি ‘সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার সিদ্ধান্তে তৃতীয় একটি রাষ্ট্রের এমন প্রকাশ্য উদ্বেগ কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন একটি অভ্যন্তরীণ ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। সেখানে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রকাশ্য নজরদারি বা উদ্বেগ প্রকাশ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইসলামাবাদের কড়া প্রতিক্রিয়া : এদিকে পাকিস্তান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে— “দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক কোনো তৃতীয় পক্ষের উদ্বেগের বিষয় হতে পারে না।”

ইসলামাবাদের মতে, ঢাকা–ইসলামাবাদ সম্পর্ক নিয়ে ভারতের বক্তব্য আঞ্চলিক কূটনৈতিক আচরণবিধির পরিপন্থী এবং অগ্রহণযোগ্য।

বাংলাদেশের প্রশ্ন: এই অতিরিক্ত মাথাব্যথার কারণ কী ? বাংলাদেশ কখনো ভারতের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করেনি। বরং সীমান্তে বহুবার শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও নদীসম্পদ নিয়ে একতরফা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
তার ওপর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে আত্মসমালোচনার বদলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ—এটি কি আধুনিক আঞ্চলিক সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ?
রাজনীতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপের ইতিহাস : বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিভিন্ন সময় বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। সরকার গঠন, নির্বাচন কিংবা কৌশলগত সিদ্ধান্তে পরোক্ষ হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নতুন নয়। ফলে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন জাগছে— বাংলাদেশ কি এখনও কারও ‘প্রভাব বলয়ের’ ভেতরে রাখার মানসিকতা থেকে ভারত বের হতে পারেনি?
সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান : বিশেষজ্ঞরা বলছেন— একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তার প্রতিরক্ষা, কূটনীতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে—তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার রাখে। কোনো প্রতিবেশীর ‘অপছন্দ’ বা ‘উদ্বেগ’ সেই অধিকার খর্ব করতে পারে না। বাংলাদেশ আজ আর কারও আধুনিক সাম্রাজ্যবাদের অধীন নয়। সে নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিশ্চিত করবে—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত।
শেষ কথা : প্রতিবেশী সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া জরুরি।
কিন্তু বন্ধুত্বের নামে একতরফা নজরদারি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার কিংবা সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা—এসব বন্ধুত্বের ভাষা নয়, বরং আধিপত্যের ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে অযাচিত নাক গলানো বন্ধ না হলে আঞ্চলিক কূটনীতিতে আস্থার সংকট আরও বাড়বে—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
