
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশজুড়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে কারসাজি, সরকারি হাসপাতালের নামে অর্থ লোপাট এবং পর্যটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের কাজ—এই তিন গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম, নীলফামারী ও পটুয়াখালীতে একযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

চট্টগ্রাম বন্দর: রমজানে কৃত্রিম সংকট তৈরির নেপথ্য চক্র ?
রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্যবৃদ্ধির অসৎ উদ্দেশ্যে আমদানিকারকদের দ্বারা লাইটার জাহাজ দীর্ঘদিন খালাস না করে নদী ও সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগে অভিযান চালায়, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১-এর এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযান পরিচালনা কালে টিম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ০৯-০৯-২০২৫ খ্রি. তারিখের স্মারক অনুযায়ী NOC (অনাপত্তি সনদ) ছাড়াই লোকাল ও পণ্যের এজেন্টদের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন হচ্ছে কি না—তা যাচাই করে
এ বিষয়ে ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন), হারবার মাস্টার ও ডেপুটি কনজারভেটর দপ্তরের বক্তব্য গ্রহণ করে, একই সঙ্গে লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও প্রক্রিয়া বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সংগৃহীত রেকর্ড, তথ্য ও বক্তব্য পর্যালোচনাপূর্বক কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনফোর্সমেন্ট টিম।

নীলফামারী সদর হাসপাতাল: ভুয়া বিল–ভাউচারে সরকারি অর্থ লুট ? নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল–ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে হয়রানির অভিযোগে অভিযান চালায় দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর।

অভিযান পরিচালনা কালে, হাসপাতাল থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়, প্রাথমিক পর্যালোচনায় হাসপাতালের মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে একাধিক অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে, এনফোর্সমেন্ট টিমের প্রাথমিক মূল্যায়নে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনাপূর্বক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
কুয়াকাটা সৈকত সড়ক: পর্যটনের নামে নিম্নমানের কাজ ? পর্যটন নগরী কুয়াকাটার ভাবমূর্তি ও জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগে অভিযান চালায় দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালী। অভিযানে উঠে আসে:
কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্র সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট থেকে ধোলাই মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য এর মধ্যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন, বাকি ৫ কিলোমিটার চলমান।
অভিযান পরিচালনা কালে, একজন নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে সড়কের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, মেকাডাম স্তর ও কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব সরেজমিনে পরিমাপ করা হয় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়, সব তথ্য ও রেকর্ড বিশ্লেষণ শেষে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাঠে দুদক : বন্দর ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যখাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন—রাষ্ট্রের তিন গুরুত্বপূর্ণ স্তরে দুর্নীতির অভিযোগে একযোগে সক্রিয় অভিযান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আর কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নেই; মাঠে নেমেই তারা দুর্নীতির শেকড় ধরতে চাইছে। এখন প্রশ্ন একটাই— এই অনুসন্ধান কি কেবল প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি জবাবদিহির মুখোমুখি হবেন সংশ্লিষ্টরা?
