
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ মন্দিরকে কেন্দ্র করে নেতৃত্ব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ধর্মীয় পরিবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মন্দিরের একাংশের ভক্ত ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী মন্দিরের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য, জবাবদিহিতা ও ধর্মীয় পবিত্রতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, মন্দির পরিচালনা কমিটির গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অস্বচ্ছতা বিরাজ করছে।
তাদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট মহল মন্দিরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অধিক প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে এবং পরবর্তীতে সেই প্রভাব আরও সুসংহত করার চেষ্টা চালায়।
মন্দির সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ভক্তের ভাষ্য অনুযায়ী, কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ যথাসময়ে নেওয়া হয়নি। গঠনতন্ত্র প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, নেতৃত্বের পরিবর্তন নিশ্চিত করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও অভিযোগ উঠেছে, মন্দির প্রাঙ্গণের কিছু অবকাঠামো ও ব্যয়সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভক্তদের অনুদানের অর্থ ব্যবহারে যথাযথ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ব্যয় নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে গত ১৯ মে অনুষ্ঠিত একটি সভা ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই দিন কমিটি পুনর্গঠনকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মতুয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ভক্তরা বলছেন, পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি বাংলাদেশের মতুয়া সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই ব্যক্তিগত প্রভাব, গ্রুপিং কিংবা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে মন্দিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়।
তাদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে যে কোনো বিরোধের সমাধান হওয়া উচিত আলোচনার মাধ্যমে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। একই সঙ্গে মন্দির পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, নিয়মিত আর্থিক নিরীক্ষা পরিচালনা করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য গঠনতন্ত্রের আওতায় নেতৃত্ব নির্বাচন করার দাবিও জানানো হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি লালন করে আসছেন। কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যেন বৃহত্তর সামাজিক সম্প্রীতিতে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগই এখন ভক্তসমাজের প্রধান
