
সুমন হোসেন (যশোর)৷ : যশোরের অভয়নগরে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ধারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, তল্লাশি চালানো, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগের তীর কামাল খাঁ : (ফেসবুক আইডি: সাংবাদিক কামাল) এবং তার দুই অজ্ঞাত সহযোগীর দিকে। ভুক্তভোগী নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি পিয়ার আলী শেখ সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কামাল খাঁ উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেয়াপাড়া গ্রামের বাবু খাঁ’র ছেলে। বর্তমানে তিনি বুইকারা গ্রামের বৌবাজার এলাকায় বসবাস করেন।

“সাংবাদিক’ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি” ! অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে মহাকাল গ্রামে পিয়ার আলী শেখের বাড়িতে হঠাৎ করে ঢুকে পড়ে কামাল খাঁ ও তার সহযোগীরা। নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করে।

পিয়ার আলীর অভিযোগ, : তারা তার স্ত্রী ও সন্তানদের গালিগালাজ করে এবং এক পর্যায়ে বাড়ির প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালায়। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি—না দিলে খুন-গুমের হুমকি ! ঘটনার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে পিয়ার আলী কারণ জানতে চাইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগে বলা হয়, কামাল খাঁ ও তার সহযোগীরা বাড়িতে ‘অবৈধ স্লাব’ থাকার অজুহাত তুলে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
পিয়ার আলী শেখের ভাষ্য : “টাকা দিতে অস্বীকার করতেই তারা আমাকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। এমনকি সামাজিকভাবে আমাকে হেয় করারও ভয় দেখায়।”
ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট! : ঘটনার পরও থেমে থাকেননি অভিযুক্তরা—এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীর। তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় কামাল খাঁ তার ফেসবুক পেজে পিয়ার আলীর ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে মানহানির চেষ্টা করেন।
অভিযুক্তের অস্বীকার : অভিযোগ অস্বীকার করে কামাল খাঁ বলেন, “আমি চাঁদা চেয়েছি—এমন কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
পুলিশের অবস্থান : অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
প্রশ্ন উঠছে—সাংবাদিক পরিচয় কি এখন ভয় দেখানোর হাতিয়ার?
এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে ? ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন
