কেরানীগঞ্জে পলিথিন সিন্ডিকেটের ছায়া : সাংবাদিকতার আড়ালে দালাল চক্র ?

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবৈধ পলিথিন ব্যবসা ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র, যেখানে এক সাংবাদিকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগে বলা হচ্ছে, “কালা মাগুর” নামে পরিচিত শাহীন গাজী নামের এক সাংবাদিক নাকি এক অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে প্রভাবিত করে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করাতে ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত পলিথিন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম আনিস দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জে গোপনে পলিথিন মজুদ ও সরবরাহ করে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার তার বিপুল পরিমাণ পলিথিন জব্দ করে ধ্বংস এবং জরিমানা করলেও অভিযোগ রয়েছে—কিছুদিন পরপরই তিনি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, যাদের ‘ম্যানেজ’ করা যায় না, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।


বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে পণ্য লুটের অভিযোগ এনে আমিনুল ইসলাম আনিস একটি মামলা করেন। সেখানে ইস্পাহানি ইমরান ও ফয়সল হাওলাদার নামে দুই সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই মামলার পেছনে মূল প্ররোচক হিসেবে কাজ করেছেন শাহীন গাজী।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, শাহীন গাজীর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে—যেমন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, সংবাদ সম্মেলনের নামে টাকা নেওয়া, এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো।

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, আনিসের হারানো পণ্য উদ্ধারের নামে নিয়মিত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে একটি প্রভাববলয় তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিককে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা হচ্ছে।

এদিকে অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক ইস্পাহানি ইমরান ও ফয়সল হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা পরিবেশ বিধ্বংসী পলিথিন ব্যবসার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছি বলেই আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। থানায় দায়ের করা অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় তাদের সম্মানহানি হয়েছে এবং তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঘটনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যে পণ্য লুটের অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি আসলে কী ছিল তা স্পষ্ট নয়। যদি তা অবৈধ পলিথিন হয়ে থাকে, তাহলে সেই পণ্যের জন্য থানায় অভিযোগ গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আর যদি এমন কোনো লুটের ঘটনাই না ঘটে থাকে, তাহলে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে শাহীন গাজী তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি—না হলে কেরানীগঞ্জে অবৈধ পলিথিন ব্যবসা ও তথাকথিত দালালচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

👁️ 97 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *