
সুমন হোসেন, (যশোর); : যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সিংগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ছাকিনা বেগম জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন।

তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার জীবন সংগ্রামকে থামিয়ে দিতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজের পা দুটিকে হাতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে জীবনের সব কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৬০ বছর।
রোববার (১৫ মার্চ) সকালে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু ছাকিনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে (পায়ের মাধ্যমে গ্রহণ করেন) নগদ অর্থ ও ঈদসামগ্রী তুলে দেন। এসময় ইউএনও’র সহধর্মিণীও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাকিনা বেগম পা দিয়েই ঘরের প্রায় সব কাজ করেন। মাছ ও সবজি কাটা, রান্না করা, কাপড় পরা, এমনকি চুল বাঁধার মতো কাজও তিনি নিজের পা ব্যবহার করেই করেন। জন্ম থেকে দুই হাত না থাকায় তার বিয়ে হয়নি। বর্তমানে তিনি কখনো ভাইয়ের বাড়িতে আবার কখনো বোনের বাড়িতে থেকে জীবন-যাপন করছেন। তিনি সিংগাড়ী গ্রামের মৃত শামসুর সরদারের মেয়ে।

অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, ছাকিনা বেগমের বিষয়ে জানতে পেরে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু নগদ অর্থ ও ঈদসামগ্রী তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ঈদের উপহার পেয়ে ছাকিনা বেগম আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, এই প্রথম কোনো ইউএনও তার বাড়িতে এসে তাকে নগদ অর্থ ও ঈদসামগ্রী দিয়েছেন। এতে তিনি খুবই খুশি হয়েছেন। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে কৃতজ্ঞতা সহ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
