
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ (পেনফিল) স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও নভো নরডিস্ক বাংলাদেশ। ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এই চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন বাস্তবায়িত হয়েছে।

এই উপলক্ষে সম্প্রতি আয়োজিত “সাবাশ বাংলাদেশ: ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি” শীর্ষক অনুষ্ঠানটি দেশের উচ্চমানের ডায়াবেটিস চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং বায়োলজিক ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নভো নরডিস্ক নভোমিক্স ও নভোর্যাপিডসহ আধুনিক ইনসুলিন ডেনমার্ক থেকে আমদানি করে আসছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় এখন একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ইনসুলিন কার্ট্রিজ বাংলাদেশেই উৎপাদন করা হবে। এতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাওয়া যাবে।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রিমিক্স ও দ্রুত কার্যকর আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তৈরি করা হবে। দেশে উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচের গুণগত মান ডেনমার্কে যাচাই করা হবে, যাতে নভো নরডিস্কের বৈশ্বিক মান বজায় থাকে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “এই উদ্যোগ আমাদের উন্নত বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর অগ্রগতিকে তুলে ধরে। এটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে, উচ্চমানের ইনসুলিন সরবরাহ সহজ করবে এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে।”
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, “এই অংশীদারিত্ব স্বাস্থ্যখাতে আমাদের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করে- জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে গুণমান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ইনসুলিনের মতো জটিল বায়োলজিক ওষুধের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক মান বজায় রেখে জনস্বাস্থ্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়, এমন উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, “স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে। এসকেএফ-এর সঙ্গে নভো নরডিস্কের প্রযুক্তি হস্তান্তর ও স্থানীয় উৎপাদনের এই উদ্যোগ দেখায়, কীভাবে ডেনিশ উদ্ভাবন মানসম্মত ডায়াবেটিস চিকিৎসা সহজলভ্য করতে পারে, পাশাপাশি দেশের বায়োম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতাও বাড়াতে সহায়তা করে।”
নোভো নরডিস্ক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি বলেন, “এই স্থানীয় উৎপাদন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি।
এ উপলক্ষে নভোমিক্স ও নভোর্যাপিড ইনসুলিনের দাম ১৮% কমানো হচ্ছে, তবে গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।”
ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, “আজ আমরা একটি গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে ডেনমার্ক থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ভিত্তিতে বাংলাদেশে নভো নরডিস্কের প্রথম আধুনিক পেনফিল ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু হলো। এই অর্জন প্রমাণ করে, বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে প্রস্তুত এবং উচ্চমানের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।”
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখে পৌছাবে। ফলে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত চিকিৎসার প্রয়োজন আরও বাড়ছে।
নভো নরডিস্ক ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহ করছে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ডায়াবেটিস চিকিৎসার উন্নয়ন এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের প্রাপ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। ২০১২ সাল থেকে তারা দেশে হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল উৎপাদন করছে, যা বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।
ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ১৯৯০ সাল থেকে উচ্চমানের ওষুধ উৎপাদন করে আসছে।
নভো নরডিস্ক সম্পর্কে : নভো নরডিস্ক একটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং যার সদর দপ্তর ডেনমার্কে অবস্থিত। ডায়াবেটিস চিকিৎসায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য গুরুতর দীর্ঘমেয়াদি রোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। এ লক্ষ্য অর্জনে তারা বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন, ওষুধের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে কাজ করে যাচ্ছে।
নভো নরডিস্ক ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহ করছে এবং দেশজুড়ে উচ্চমানের ইনসুলিনের প্রাপ্যতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। সহায়তা করছে।
এসকেএফ সম্পর্কে : এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৯০ সালে ট্রান্সকম গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথক্লাইন অ্যান্ড ফ্রেঞ্চের স্থানীয় কার্যক্রম অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করে।
প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বমানের উৎপাদন সুবিধা পরিচালনা করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন, ইউরোপীয় জিএমপি, যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ, অস্ট্রেলিয়ার টিজিএ এবং ব্রাজিলের আনভিসাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
এসকেএফ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ রপ্তানি করে আসছে এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মানুষের জন্য উচ্চমানের ওষুধ সরবরাহের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
