
নিজস্ব প্রতিবেদক , (হবিগঞ্জ) : হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির শীর্ষ নেতা নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ও মো. সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির দাবি, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই অতর্কিত এ হামলা চালায়। এতে সাংবাদিকসহ দলটির একাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

দলটির অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিমের একটি মাইক্রোবাস হবিগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে নেওয়া হলেও সেখানেও হামলাকারীরা প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। শুধু ভাঙচুরেই থেমে না থেকে সাংবাদিকদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া বা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি করেছে এনসিপি।
এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ঢুকে এমন হামলা, ভাঙচুর ও সরঞ্জাম লুটের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দলটির অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি।

ঘটনার পর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপি বলেছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় যারা সন্ত্রাস, অস্ত্র ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। দলটি হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের মদদদাতা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি। দলটির বক্তব্য, ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করতে যদি রাজনৈতিক ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করা হয়, তবে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থী হবে এবং দেশের রাজনীতিকে আবারও সংঘাতমুখী করে তুলবে।

ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার প্রকৃত ঘটনা, দায়ীদের পরিচয় এবং সার্কিট হাউসের অভ্যন্তরে কীভাবে হামলাকারীরা প্রবেশ করল—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ স্বাধীন গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
