
নিজস্ব প্রতিনিধি (বগুড়া) : বগুড়ার এসপি মির্জা সায়েম মাহামুদ আওয়ামী আমলের তথাকথিত “জঙ্গি নাটকের” এক বহুল আলোচিত মুখ। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘ সময় ধরে উপভোগ করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক পোস্টিং। কখনো সিএমপিতে এএসপি ও এডিসি, কখনো বিশেষ ইউনিটে, আবার কখনো তথাকথিত জঙ্গি দমন স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ক্ষমতাকেন্দ্রিক বলয়ের একজন নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এ দায়িত্ব পালনকালে তিনি ছিলেন SWAT-সংশ্লিষ্ট অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা। বিশেষ করে ২০১৭-২০১৮ সময়ে সিতাকুণ্ড থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ADC) পদে থেকে Counter Terrorism Unit-এর অধীনে একাধিক উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।
জঙ্গিবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে SWAT টিমের সঙ্গে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ছিল। এমনকি একটি অভিযানে আহত হওয়ার ঘটনাও পুরনো রেকর্ডে উঠে এসেছে, যা তার অপারেশনাল সম্পৃক্ততার বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে Anti-Terrorism Unit-এ কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, গোয়েন্দা সমন্বয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ২০১৮ সালে তিনি অর্জন করেন PPM (পুলিশ পদক) যা বাংলাদেশ পুলিশে বিশেষ অবদানের অন্যতম স্বীকৃতি।

আওয়ামী লীগের আমলে তার পরিবারের রাজনৈতিক সংযোগও ছিল আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, তার ভাই যিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন ভাইয়ের পদোন্নতি ও সুবিধাজনক পোস্টিং নিশ্চিত করতে লিখিতভাবে দলীয় পদ থেকেও সরে দাঁড়ান। এরপর থেকেই প্রশাসনিক অন্দরমহলে মির্জা সাহেবের প্রভাব ও অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে থাকে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
এখন বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠছে, তিনি নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো বিদেশি কিছু সাংবাদিকের কাছে পুলিশ বিভাগের স্পর্শকাতর তথ্য সরবরাহ এবং বাহিনীর অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরির অপচেষ্টা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে তার ভূমিকা নিয়ে।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শৃঙ্খলা এবং দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে কোনো ধরনের গোপন খেলা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদে থেকে যদি কেউ ব্যক্তিস্বার্থ, রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা বিদেশি মহলের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করতে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে থাকেন, তবে তা শুধু অনৈতিকই নয় রাষ্ট্রের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আইনশৃঙ্খলা ও বিশেষ অভিযানের জগতে দীর্ঘদিন আলোচিত একটি নাম কিন্তু তিনি কি সত্যিই রাষ্ট্রের জন্য কাজ করছেন, নাকি বদলে ফেলছেন শুধু রাজনৈতিক মুখোশ?
