রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন মো. সাহাবুদ্দিন৷ : সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে পদত্যাগপত্র, অসুস্থতাকে দেখালেন প্রধান কারণ

Uncategorized জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো : শাহাব উদ্দিন চুপ্পু। ছবি – সংগ্রহীত।


বিজ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা ও দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।


বিজ্ঞাপন

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। সেই সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণ করেন। আপিল বিভাগের পরামর্শের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।


বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে।

রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্রে দাবি করেন, তার ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়নি।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ পত্র।

তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। পদত্যাগপত্রে নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে Autonomic Neuropathy রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এসব জটিল রোগের কারণে তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা আগের মতো নেই এবং রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, “এমতাবস্থায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।”

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার মেয়াদকালে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাংবিধানিক পরিবর্তন ও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষী হয় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

👁️ 30 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *