
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী. : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে কলেজ ছাত্র সিয়াম মোল্লাকে (১৭) নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। বুধবার সকালে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বালিয়াকান্দী বাজারে নিহতের পরিবারের সদস্য ও সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা খুনিদের ছবিসহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে সিয়ামকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার বন্ধুর মধ্যে দুজন এখনো গ্রেফতার হয়নি।

তারা গোপনে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তারা অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

নিহতের মা শিউলি বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ছেলেকে আমার কোল থেকে ডেকে নিয়ে ওরা মেরে ফেলেছে। আমি শুধু ওগো ফাঁসি চাই।” নিহতের চাচী রুমা বেগম জানান, সিয়ামের কোনো অপরাধ ছিল না।
তাকে হত্যার পর তিন দিন লাশ গুম করে রাখা হয়েছিল, যার ফলে দেহ পচে বিকৃত হয়ে যায়। অন্যদিকে, নিহতের চাচা শিপন মোল্লা জানান, সিয়াম মুকসুদপুর কলেজের এসএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। অভি মুন্সি, সাজিদ, পারভেজ এবং দিদার পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। তিনদিন পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর গত সোমবার (৯ মার্চ) রাতে ঝুটিগ্রামের একটি পুকুর থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, সিয়ামের কাছে থাকা দামী আইফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই তার ৪ বন্ধু—সাজিদ মুন্সি, পারভেজ মুন্সি, অভি মুন্সি এবং দিদার মুন্সি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।
এ ঘটনায় পুলিশ ঝুটিগ্রামের দিদার (১৪) ও বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের পারভেজকে (১৫) গ্রেফতার করেছে। বাকি দুই আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
