
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে বলপূর্বক গুম ও হত্যার অভিযোগ ঘিরে বহু বছর ধরে চলমান আলোচিত ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান গুম-খুন সংক্রান্ত মামলার এক জবানবন্দিতে নাম উঠে আসার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানকে বিমান বাহিনীর যথাযথ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ জুন ২০২৬ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার এবং বর্তমানে উইং কমান্ডার মো. সাইফুর রহমানের নাম উঠে আসে।
তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের মেয়ের জামাতা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমান বাহিনী কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও রহস্যঘেরা অধ্যায়। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিবার, রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি সেই বহুল আলোচিত ঘটনার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি তদন্তের মাধ্যমে জবানবন্দিতে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত দায়ের প্রশ্ন হবে না; বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে তাঁরা সতর্ক করে বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন না করে প্রমাণভিত্তিক বিচার নিশ্চিত করাই হবে আইনের শাসনের প্রকৃত প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।
